সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশে আর্সেনিকের বিষক্রিয়ায় বা আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। এ সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আর্সেনিক নিয়ে অতীতের কাজ ৮০ শতাংশ হারিয়ে গেছে। এনজিওগুলো আর্সেনিক নিয়ে কাজের হিসাব সরকারকে দেয় না।
গতকাল সোমবার রাজধানীর স্পেক্ট্রা কনভেনশন সেন্টারে যশোর জেলার অভয়নগর উপ-জেলায় আর্সেনিক-দূষণ মোকাবিলায় একটি দিশারী প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তাঁরা এ কথা বলেন। এশিয়া আর্সেনিক নেটওয়ার্ক ও জাপানি দাতা সংস্থা জাইকা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তারা বলেন, বিকল্প উৎস না থাকায় মানুষ জেনেশুনে আর্সেনিকযুক্ত পানি পানে বাধ্য হচ্ছে। আর্সেনিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপকর্মসূচি ব্যবস্থাপক (আর্সেনিক ও অসংক্রামক ব্যাধি) এ কে এম জাফর উল্লাহ জানান, ২০০৯ সালে দেশে আর্সেনিকোসিসে আক্রান্ত মানুষ ছিল ৩৮ হাজার ৩২০ জন। ২০১০ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ হাজার ৭৫৮ জনে।
অভয়নগর উপজেলাতেও রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শ্যামল কৃষ্ণ সাহা জানান, ২০০৭ সালে ওই উপজেলায় শনাক্ত করা রোগীর সংখ্যা ছিল ৪২ জন। ২০০৯ সালে ১৭৯ জন। ২০১১ সালে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১০ জনে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, জাইকার অর্থায়নে ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব হেলথ ড্যামেজ অ্যান্ড পোভার্টি বাই আর্সেনিক কন্টামিনেশন ইন অভয়নগর, যশোর’ নামের প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে এলাকার মানুষের আর্সেনিক বিষয়ে সচেতনতা বেড়েছে। প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্পে খরচ হয়েছে এক কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে প্রকল্পের ফলে স্বাস্থ্য পরিস্থিতির কী উন্নতি হয়েছে, তা এখনো মূল্যায়ন করে দেখা হয়নি।
প্রকল্প এলাকা থেকে আসা ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা দাবি করেন, এলাকার আর্সেনিক বিষয়ে নিয়মিত সভা হয়, নলকূপের পানিতে আর্সেনিক আছে কি না, তা পরীক্ষার সহজলভ্য ব্যবস্থা করা হয়েছে, মানুষ উপজেলা হাসপাতাল থেকে নিয়মিত ওষুধ পাচ্ছে।
অভয়নগর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান লায়লা খানম বলেন, প্রকল্পের অর্থে প্রেমবাগ গ্রামে যে পুকুর খনন করা হয়েছে, তা থেকে মানুষ আর্সেনিকমুক্ত পানি পাচ্ছে।
যশোরের সিভিল সার্জন মো. আতিকুর রহমান খান বলেন, ওষুধ নিতে হাসপাতালে আসলে দরিদ্র মানুষের একদিনের উপার্জন কম হয়। তাই রোগীদের বাড়িতে একসঙ্গে তিন মাসের ওষুধ সরবরাহের কথা কর্তৃপক্ষ ভাবছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এ কে এম জাফর উল্লাহ বলেন, আর্সেনিক নিয়ে অতীতের কাজ ৮০ শতাংশ হারিয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এনজিওগুলো আর্সেনিক নিয়ে কাজের হিসাব সরকারকে দেয় না।
Source: www.prothom-alo.com